মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভিকাখালী গ্রামের পাশের পায়রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পায়রা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ দল। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহম্মদ মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকারী দল নদীতে পৌঁছালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পান। এ সময় তাঁরা মাছ ধরার জাল নদীতে ফেলে নৌকা নিয়ে দ্রুত তীরে উঠে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরে তীর থেকে কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট ও ট্রলার লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে স্পিডবোটটির সামনের কাচ ভেঙে যায়। একই সময়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। অভিযানের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলে ইউএনও, জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
হামলার ঘটনার পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ইউএনও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।
ইউএনও শেখ মো. রাসেল জানান, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে প্রায় ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও দুটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং অভিযান পরিচালনায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে হামলার এ ঘটনা মা ইলিশ রক্ষায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। অভিযানে জাল ও নৌকা জব্দের মধ্য দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।