কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পুরোনো নোমরহাট বাজারের চলাচলের রাস্তা ও টিয়াখালী নদীর তীরবর্তী জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৫০ বছরের পুরোনো একটি রাস্তা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ করায় প্রায় ১০ বছর ধরে ওই পথে মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধানখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অপসারিত ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাদা পারভেজ টিনু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাজারের রাস্তা ও নদীর তীরবর্তী এলাকা দখল করে ‘আলভী শপিং মল’ নামে একটি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, নোমরহাট বাজারের উত্তর পাশের একটি রাস্তার জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে মার্কেট গড়ে ওঠায় আগের পথ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পথে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাস্তা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। সে সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পার হলেও চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার কিংবা নদীর তীরবর্তী স্থাপনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি।
বাজারের ব্যবসায়ী আজাদ মোল্লা বলেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখল করে অন্তত ১০ বছর আগে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এর ফলে ওই পথ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
দোকানি মহিউদ্দিন লিমন বলেন, ‘রাস্তাটি খুলে রাখা প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিষয়টির সমাধান হওয়া জরুরি।
নোমরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমগীর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাজারের একটি গলি ও নদীর পাড়ের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বাজারের স্বাভাবিক চলাচলব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাদা পারভেজ টিনু মৃধা। তিনি বলেন, ‘তিনি যা কিছু করেছেন, সব রেকর্ডীয় জায়গার ওপর। সরকারি কোনো খাস জমিতে কিছু করেননি। তিনি রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। প্রশাসনের অনুরোধে কলাপসিবল গেট খুলে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নোমরহাট বাজারের পুরোনো চলাচলের রাস্তার প্রকৃত মালিকানা, জমির রেকর্ড এবং টিয়াখালী নদীর তীরবর্তী জায়গার অবস্থান ও সীমানা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পথটি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তা ও নদীর তীরবর্তী জায়গার মালিকানা যাচাই করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের পথ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নোমরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।