দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জনসম্পৃক্ততা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে ‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কামাল হোসেন, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান, এসডিএর নির্বাহী পরিচালক এনায়েত হোসেন এবং পটুয়াখালী রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের লেভেল অফিসার ফারুক হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, কার্যকর পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবার থেকে শুরু করে স্থানীয় ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু দুর্যোগের সময় তৎপরতা দেখালেই হবে না; বরং দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা, জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সভায় পারিবারিক পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, প্রতিটি পরিবার দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের এ কর্মসূচির মাধ্যমে পটুয়াখালীতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।