সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত পায়রা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালিত হয়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নদীর বাহেরচর, পশ্চিম আঙ্গারিয়া, আলগি, রাজাগঞ্জ ও চান্দখালী এলাকায় তৎপরতা চালানো হয়। এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ বন্ধ এবং ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জব্দ করা কারেন্ট জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ সম্পদের টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন এবং ইলিশের বংশবিস্তার আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।