দুমকি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সুমন।
সভায় কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়নে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কন্যাশিশুরা আজ আর পিছিয়ে নেই। উপযুক্ত শিক্ষা, সঠিক পরিবেশ ও যথাযথ দিকনির্দেশনা পেলে তারা সমাজ ও দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুর সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং বেড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অল্প বয়সে বিয়ে একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সুমনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ ধরনের আয়োজন কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সভায় কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কন্যাশিশুর জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। তাই কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণের পথ সুগম করতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।